নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনের ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচি ঘোষণা, প্রশাসনকে তিন কর্মদিবসের আল্টিমেটাম
মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম শরীফ | ০৩ আগস্ট, ২০২৬
টেকনাফে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলা, দিবালোকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই, ফাঁকা গুলি বর্ষণ এবং নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ-উখিয়ার হোয়াইক্যং প্রতিনিধির ওপর যাত্রাপথে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ-উখিয়া।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক জরুরি ঘোষণায় বলা হয়, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এগুলো টেকনাফের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, অপরাধী চক্র ক্রমেই আরও সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একের পর এক এমন ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান, দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা জনগণের চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের শাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ-উখিয়া আগামীকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, এই লাল কার্ড কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রকাশের উদ্দেশ্যে নয়; বরং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের প্রতীক এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান।
সংগঠনটি প্রশাসনকে তিন কর্মদিবসের সময়সীমা দিয়ে দাবি করেছে—এই সময়ের মধ্যে নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনের প্রতিনিধির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ গণকর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং আইনসম্মত ও সাংবিধানিক উপায়ে পরবর্তী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে সংগঠনটি জানায়, ‘টেকনাফের মানুষ ভয় নয়, নিরাপত্তা চায়; আশ্বাস নয়, ফলাফল চায়; নীরবতা নয়, আইনের কার্যকর প্রয়োগ চায়।’ একই সঙ্গে টেকনাফকে নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ-উখিয়া।

0 Comments