Breaking News

6/recent/ticker-posts

মাত্র ৫০০ টাকার ঘরভাড়া পরিশোধে নিজের চুল বিক্রি করলেন এক অসহায় মা

মাত্র ৫০০ টাকার ঘরভাড়া পরিশোধে নিজের চুল বিক্রি করলেন এক অসহায় মা

মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম শরীফ |০৯ আগস্ট, ২০২৬

মাত্র ৫০০ টাকার ঘরভাড়া পরিশোধ করার জন্য নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে এক অসহায় মাকে। ঘটনাটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুনের। দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করা এই নারীর গল্প স্থানীয়দেরও চোখে পানি এনে দিয়েছে।


জানা গেছে, রেহানা খাতুন দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ঝুপড়ি ঘরে ভাড়া থাকতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়টুকুও হারাতে হয় তাকে। এরপর সন্তানদের নিয়ে খুলনা–মোংলা রেললাইনের পাশে সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বাঁশ দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেন। তবে টিন, বেড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার সামর্থ্য না থাকায় সেই কাঠামো এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে, সেই অসমাপ্ত কাঠামোর মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে রেহানার।

এরই মধ্যে একদিন স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন, রেহানার মাথায় আর চুল নেই। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, মাত্র ৫০০ টাকা ঘরভাড়া পরিশোধ করার জন্য নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন।

রেহানা খাতুন বলেন, “দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। ঘর নেই, খাওয়ারও কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। সন্তানদের নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে চাই।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, রেহানার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই চরম অভাব-অনটনের মধ্যে রয়েছে। স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস নেই। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে একটি নিরাপদ ঘর তৈরি করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সমাজকর্মীরা বলছেন, একজন নারীর মাথার চুল শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি তার আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিগত পরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। সেই চুল যখন একজন মায়ের কাছে সন্তানদের মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করার শেষ সম্বল হয়ে ওঠে, তখন তার অসহায়ত্বের গভীরতা সহজেই অনুমেয়।

স্থানীয়দের দাবি, রেহানা খাতুনের জন্য খুব বেশি কিছু প্রয়োজন নেই। কয়েক বান্ডিল টিন, কিছু বেড়া, একটি দরজা এবং ন্যূনতম বাসযোগ্য একটি ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা গেলে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।

এলাকাবাসী সরকার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং বিভিন্ন মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি রেহানা খাতুনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামান্য সহায়তাই এই পরিবারটির জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

রেহানা খাতুনের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—দারিদ্র্য শুধু অর্থের অভাব নয়, অনেক সময় তা একজন মানুষের আত্মমর্যাদা, নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম মানবিক জীবনযাপনের অধিকারকেও কেড়ে নেয়।


Post a Comment

0 Comments